সমাজসেবা অধিদপ্তর (DSS) সম্প্রতি তাদের ২০২৬ সালের নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যারা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ।
আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে। dss.teletalk.com.bd apply 2026 লিংকে গিয়ে প্রার্থীরা ঘরে বসেই আবেদন করতে পারবেন। তবে সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই ফর্মে ভুল করেন বা ফি জমা দিতে গিয়ে আটকে যান। এই পোস্টে আমরা আবেদনের যোগ্যতা থেকে শুরু করে ফর্ম পূরণের নিয়ম এবং পেমেন্ট করার সঠিক পদ্ধতি ধাপে ধাপে আলোচনা করব।
এই নিবন্ধে ব্যবহৃত কিছু তথ্য পূর্ববর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সরকারি চাকরির প্রচলিত নীতিমালা এবং অফিসিয়াল নির্দেশনার ভিত্তিতে ব্যাখ্যামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চূড়ান্ত ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, টেলিটক আবেদন পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।
এই ওয়েবসাইট কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় বা নিয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না এবং এটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রকাশনা।

সংক্ষেপে DSS Apply 2026
- আবেদন ওয়েবসাইট: dss.teletalk.com.bd
- আবেদন মাধ্যম: অনলাইন
- ফি প্রদান: টেলিটক প্রিপেইড
- ছবি: 300×300 px
- স্বাক্ষর: 300×80 px
- সময়সীমা: বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী
সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী আবেদনযোগ্যতা নির্ধারিত হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত
সমাজসেবা অধিদপ্তর মূলত দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে। ২০২৬ সালের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কয়েকটি পদে লোকবল নেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়াটি টেলিটকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ম্যানুয়াল বা ডাকযোগের আবেদনপত্র অধিদপ্তর গ্রহণ করবে না।
আবেদন করার আগে মূল বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত প্রতিটি পদের যোগ্যতা ও শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া দরকার। সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ না করলে পরবর্তীতে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই সব কাগজপত্র কাছে নিয়ে ধীরস্থিরভাবে আবেদন করা ভালো।
কুইক ফ্যাক্টস
- আবেদনের ওয়েবসাইট: dss.teletalk.com.bd
- আবেদনের মাধ্যম: সম্পূর্ণ অনলাইন
- পেমেন্ট গেটওয়ে: টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল
- হেল্পলাইন: টেলিটক নম্বর থেকে 121 এ কল করে বা vas.query@teletalk.com.bd তে ইমেইল করে।
আবেদনের সাধারণ যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় শর্তাবলি
সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আবেদনের শেষ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।
শিক্ষাগত যোগ্যতা পদের ওপর নির্ভর করবে। অষ্টম শ্রেণি পাস থেকে শুরু করে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস প্রার্থীরাও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করতে পারবেন।
জেলা কোটার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু জেলার প্রার্থীরা সব পদে আবেদন করতে পারবেন না। তবে এতিম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটার প্রার্থীরা যেকোনো জেলা থেকে সব পদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
সরকারি চাকরির বয়স নির্ধারণ সম্পর্কিত সরকারি নির্দেশনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাবেন।
সার্কুলারে কি কি পদ আছে
সমাজসেবা অধিদপ্তরের (DSS) সার্কুলারগুলো বেশ বড় হয় এবং ভালো দিক হলো, এখানে সব ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের জন্যই আবেদনের সুযোগ থাকে। অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতক বা মাস্টার্স পাস—সবার জন্যই মানানসই কোনো না কোনো পদ থাকে।
যেহেতু অধিদপ্তরের কাজের পরিধি অনেক বড় (যেমন: এতিমখানা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন), তাই পদের বৈচিত্র্যও অনেক। নিচে সার্কুলারে থাকা জনপ্রিয় এবং উল্লেখযোগ্য পদগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যাতে আপনি সহজেই বুঝতে পারেন কোন পদটি আপনার জন্য মানানসই হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সার্কুলারে থাকা প্রধান পদগুলো এবং সেই পদগুলোতে চাকরি পেলে বাস্তবে আপনাকে কী কী কাজ করতে হবে, তার বিস্তারিত একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো। প্রতিটি পদের কাজের ধরন খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে যাতে আপনি পরিষ্কার ধারণা পান।
আরো দেখুনঃ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহায়ক পদের কাজ কী ২০২৬? দায়িত্ব, বেতন ও বাস্তব তথ্য
১. সমাজকর্মী (ইউনিয়ন)
এটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের জনপ্রিয় এবং চাহিদাসম্পন্ন একটি পদ। বেশিরভাগ মানুষই মূলত এই পদটির জন্যই অপেক্ষা করেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: (পূর্ববর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী) এইচএসসি (HSC) বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হলেই এই পদে আবেদন করা যায়। যারা মানুষের সাথে মিশতে এবং ফিল্ড ওয়ার্ক করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি জব।
সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) পদের কাজ কি কি:
- বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য উপযুক্ত ও প্রকৃত অভাবী প্রার্থী বাছাই করা।
- ভাতার আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্যগুলো সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে যাচাই-বাছাই করা।
- যাচাই শেষে যোগ্য ভাতাভোগীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো।
- সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।
- এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এলাকায় জরিপ করা এবং তাদের কল্যাণে কাজ করা।
- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে উঠান বৈঠক বা আলোচনা করা।
- স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের (চেয়ারম্যান/মেম্বার) সাথে সমন্বয় করে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
- ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে এলাকায় জরিপ পরিচালনা ও তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা করা।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও তথ্য সংগ্রহ করা।
- ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সভায় উপস্থিত থেকে সমাজসেবার রিপোর্ট বা কাজের অগ্রগতি পেশ করা।
২. অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক
যারা ডেস্ক জব বা অফিসে বসে কাজ করতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় পদ।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এর জন্যও এইচএসসি (HSC) পাস হতে হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা। বাংলা ও ইংরেজি টাইপিংয়ে নির্দিষ্ট স্পিড ( প্রতি মিনিটে ২০ -২৫ শব্দ) থাকতে হয়।
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের কাজ কি কি?
- অফিসের দৈনন্দিন চিঠিপত্র, সরকারি নোটিশ ও মেমো কম্পিউটারে নির্ভুলভাবে টাইপ করা।
- ভাতাভোগীদের নামের তালিকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডেটা মাইক্রোসফট এক্সেলে এন্ট্রি করা।
- ই-নথির (ইলেক্ট্রনিক ফাইল) মাধ্যমে বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে বা অন্য দপ্তরে পাঠানো।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে অফিসের বিভিন্ন সরকারি মেইল চেক করা এবং সময়মতো রিপ্লাই দেওয়া।
- অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ফাইলগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে বা ইনডেক্স করে আলমারিতে সংরক্ষণ করা।
- ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন রিপোর্ট, ছক বা প্রেজেন্টেশন তৈরি করা।
- ফটোকপি মেশিন, স্ক্যানার ও প্রিন্টারের মতো সাধারণ অফিস সরঞ্জামাদির ব্যবহার ও যত্ন নেওয়া।
- সভার কার্যবিবরণী (মিটিং মিনিটস) লেখা এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তা পৌঁছে দেওয়া।
- দাপ্তরিক বিভিন্ন রেজিস্টার খাতা (যেমন: হাজিরা খাতা, পত্র প্রাপ্তি ও জারি রেজিস্টার) প্রতিদিন আপডেট রাখা।
- তথ্য অধিকার আইনের আওতায় কেউ কোনো তথ্য বা কাগজ চাইলে তা গুছিয়ে প্রস্তুত করতে স্যারদের সহায়তা করা।
আরো পড়ুনঃ [আপডেট তথ্য] বাংলাদেশ রেলওয়ে পোর্টার পদের কাজ । বেতন, ভূমিকা, সুযোগ-সুবিধা
৩. অফিস সহায়ক (এমএলএসএস)
যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা একটু কম, তাদের জন্য এই পদে প্রবেশের একটি ভালো সুযোগ হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এই পদে অষ্টম শ্রেণি (JSC/JDC) বা এসএসসি (SSC) পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন। (বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক)
(এমএলএসএস) অফিস সহায়ক পদের কাজ কি কি:
- প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট সময়ে অফিস খোলা এবং ছুটির পর সবকিছু ঠিকমতো তালাবদ্ধ করা।
- কর্মকর্তাদের টেবিল, চেয়ার, কম্পিউটার ও অফিসের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
- এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে বা এক শাখা থেকে অন্য শাখায় ফাইল বা নথিপত্র হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া।
- অফিসে আসা দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া।
- ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী চা, পানি বা হালকা নাস্তার ব্যবস্থা করা।
- অফিসের জরুরি ডাক বা চিঠিপত্র পোস্ট অফিসে নিয়ে যাওয়া বা অন্য কোনো সরকারি অফিসে পৌঁছে দেওয়া।
- দাপ্তরিক মিটিংয়ের সময় মিটিং রুম প্রস্তুত করা, চেয়ার সাজানো এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা।
- কর্মকর্তাদের প্রয়োজনে অফিসের জরুরি কাগজ ফটোকপি করা বা ফাইল বাইন্ডিং করার কাজ করা।
- অফিসের নিরাপত্তা ও সাধারণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বহিরাগতদের অযথা ভিড় জমাতে বাধা দেওয়া।
- বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ছুটির পর ফ্যান, বাতি বা এসি ঠিকমতো বন্ধ হলো কি না, তা চেক করা।
৪. হাউজ প্যারেন্ট / শিক্ষক / ইনস্ট্রাক্টর
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে অনেক শিশু পরিবার (এতিমখানা), প্রতিবন্ধী কেন্দ্র এবং কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের দেখভাল বা পড়ানোর জন্য এই পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: পদের ধরন অনুযায়ী যোগ্যতা আলাদা হয়। কোনোটিতে স্নাতক ডিগ্রি লাগে, আবার কারিগরি প্রশিক্ষক পদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা বা ট্রেড কোর্স করা থাকতে হয়।
হাউজ প্যারেন্ট বা শিক্ষক পদের কাজের ধরন:
- সরকারি শিশু পরিবার বা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা নিবাসীদের সার্বক্ষণিক অভিভাবকের মতো দেখাশোনা করা।
- শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, আনন্দদায়ক এবং একদম পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
- নিবাসীদের প্রাত্যহিক রুটিন তৈরি করা এবং তা প্রতিদিন নিয়মমতো মেনে চলতে সাহায্য করা।
- সকালে ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া-দাওয়া, প্রার্থনা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সব কাজের তদারকি করা।
- শিশুদের ঠিকমতো স্কুলে পাঠানো এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়া বা হোমওয়ার্কে সাহায্য করা।
- অবসর সময়ে নিবাসীদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা।
- কোনো শিশু অসুস্থ হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নিয়মমতো ওষুধ খাওয়ানো।
- শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেখানো এবং তাদের নৈতিক ও মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া।
- নিবাসীদের প্রতিদিনের খাবার মেন্যু ঠিক আছে কি না এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা তদারকি করা।
- শিশুদের মানসিক বিকাশে বন্ধুসুলভ আচরণ করা এবং তাদের কোনো কষ্ট বা অভিমান থাকলে কাউন্সিলিং করা।
পড়তে পারেনঃ ভাইভা বোর্ডে সফল হওয়ার কার্যকর উপায় | ইউনিয়ন সমাজকর্মী ভাইভা প্রশ্ন ও প্রস্তুতি
৫. হিসাবরক্ষক বা ক্যাশিয়ার
যাদের কমার্স বা ব্যবসায় শিক্ষা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, তাদের জন্য এই পদগুলো বরাদ্দ থাকে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক (ডিগ্রি বা অনার্স) পাস হতে হয়।
হিসাবরক্ষক বা ক্যাশিয়ার পদের কাজ কি কি:
- অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি মাসের বেতন বিল (পে-বিল) প্রস্তুত করে পাস করানো।
- অফিসের দৈনন্দিন খরচের ভাউচার তৈরি করা এবং ক্যাশ বইতে (Cash Book) প্রতিদিন তা এন্ট্রি করা।
- বিভিন্ন ভাতার (বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী) টাকার হিসাব এবং বরাদ্দের আর্থিক হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা।
- আগামী অর্থবছরের জন্য অফিসের বাৎসরিক বাজেটের চাহিদা তৈরি করা এবং ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো।
- সরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অফিসের প্রয়োজনে চেক দিয়ে টাকা তোলা এবং উদ্বৃত্ত টাকা সঠিকভাবে জমা দেওয়া।
- ঠিকাদার বা সরবরাহকারীদের দেওয়া বিল চেক করা এবং নিয়ম অনুযায়ী পেমেন্টের ব্যবস্থা করা।
- সরকারি অডিট বা নিরীক্ষা টিমের জন্য যাবতীয় আর্থিক নথিপত্র, বিল ও ভাউচার প্রস্তুত করে রাখা।
- বিল থেকে নিয়ম অনুযায়ী আয়কর (Tax) এবং ভ্যাট (VAT) কর্তন করে তা সরকারি ট্রেজারিতে চালান আকারে জমা দেওয়া।
- অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র বা যন্ত্রপাতি ক্রয়-বিক্রয়ের আর্থিক হিসাব স্বচ্ছতার সাথে মেইনটেইন করা।
- মাস শেষে ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে ক্যাশ বইয়ের হিসাব মেলানো (ব্যাংক রিকনসিলিয়েশন) এবং আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা।
বাস্তবে DSS চাকরিতে কাজের পরিবেশ কেমন?
- ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের ফিল্ড ভিজিট করতে হয়।
- অফিস সহকারী মূলত উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অফিস ভিত্তিক কাজ করেন।
- অফিস সহায়ক সাধারণ অফিস ব্যবস্থাপনা করেন।
- শিশু পরিবারে কর্মরতদের আবাসিক দায়িত্ব থাকতে পারে।
- কর্মস্থল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হতে পারে।
সকল পদের মূল বেতন
সমাজকর্মী: গ্রেড-১৬: ৯৩০০-২২৪৯০
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক: গ্রেড-১৬: ৯৩০০-২২৪৯০
অফিস সহায়ক: গ্রেড-২০: ৮২৫০-২০০১০
বেতন কাঠামো জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
DSS এ নিয়োগের সম্ভাব্য ধাপ
১. অনলাইন আবেদন
২. আবেদন ফি প্রদান
৩. প্রার্থী তালিকা যাচাই
৪. লিখিত পরীক্ষা
৫. ব্যবহারিক পরীক্ষা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৬. ভাইভা পরীক্ষা
৭. পুলিশ ভেরিফিকেশন
৮. চূড়ান্ত নিয়োগ
dss.teletalk.com.bd আবেদন করতে কি কিযোগ্যতা লাগে
| বিষয় | সাধারণ প্রার্থী | কোটাধারী প্রার্থী (মুক্তিযোদ্ধা/প্রতিবন্ধী) |
|---|---|---|
| বয়সসীমা | ১৮ – ৩০ বছর | ১৮ – ৩২ বছর |
| জাতীয়তা | জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক | জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | পদ অনুযায়ী (অষ্টম শ্রেণি থেকে স্নাতক) | পদ অনুযায়ী (অষ্টম শ্রেণি থেকে স্নাতক) |
| জেলা কোটা | বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত জেলার প্রার্থীরা | সকল জেলার প্রার্থীরা আবেদনযোগ্য |
dss.teletalk.com.bd apply 2026: অনলাইনে আবেদনের সঠিক নিয়ম
আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া: আবেদন শুরু করার আগে আপনার ছবি (৩০০x৩০০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) এবং স্বাক্ষর (৩০০x৮০ পিক্সেল, সর্বোচ্চ ৬০ কেবি) স্ক্যান করে আপনার ফোন বা কম্পিউটারে প্রস্তুত রাখুন।
- ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে
dss.teletalk.com.bdওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। পেজটি লোড হলে আপনি “Application Form” নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন। - পদের নাম নির্বাচন (সঠিক পদ নির্বাচন না করলে আবেদন বাতিল হতে পারে): “Application Form” এ ক্লিক করার পর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদগুলোর একটি তালিকা আসবে। আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী যে পদে আবেদন করতে চান, সেই পদের পাশের রেডিও বাটনে (গোল ঘর) ক্লিক করে নিচে “Next” বাটনে চাপুন।
- আবেদন ফর্ম পূরণ (সার্টিফিকেট অনুযায়ী তথ্য দিন): এখন আপনার সামনে মূল আবেদন ফর্মটি খুলবে। এখানে আপনার বেসিক তথ্যগুলো দিতে হবে:
- Personal Information: আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, ধর্ম, জেন্ডার ইত্যাদি এসএসসি (SSC) সার্টিফিকেট অনুযায়ী ইংরেজিতে লিখুন।
- Address: বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- Educational Qualification: আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ (SSC, HSC, অনার্স ইত্যাদি), পাসের সন, বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় এবং রেজাল্ট সতর্কতার সাথে পূরণ করুন।
- ক্যাপচা (Captcha) পূরণ: ফর্মের একেবারে নিচে একটি সিকিউরিটি কোড বা ক্যাপচা (আঁকাবাঁকা কিছু অক্ষর ও সংখ্যা) দেখতে পাবেন। বক্সে ঠিক সেভাবেই কোডটি টাইপ করুন এবং এর নিচের ডিক্লারেশন বক্সে টিক (✔) চিহ্ন দিয়ে “Next” এ ক্লিক করুন।
- ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড (ছবি ১০০KB এবং স্বাক্ষর ৬০KB এর নিচে হতে হবে): পরবর্তী পেজে আপনার দেওয়া সব তথ্যের একটি প্রিভিউ দেখতে পাবেন। সব ঠিক থাকলে পেজের নিচের দিকে ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করার অপশন পাবেন। আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ছবি এবং স্বাক্ষর নির্দিষ্ট বক্সে আপলোড করুন।
- চূড়ান্ত সাবমিট (সাবমিট করার পর আর তথ্য পরিবর্তন করা যাবে না): আপলোড শেষ হলে নিচের ডিক্লারেশন বক্সে টিক দিয়ে “Submit the Application” বাটনে ক্লিক করুন।
- Applicant’s Copy ডাউনলোড: সফলভাবে সাবমিট হলে আপনি একটি Applicant’s Copy দেখতে পাবেন। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে বা পিডিএফ হিসেবে সেভ করে রাখুন। এই কপিতে একটি User ID দেওয়া থাকবে, যা দিয়ে পরবর্তীতে ফি জমা দিতে হবে।
DSS আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
DSS (সমাজসেবা অধিদপ্তর) নিয়োগে সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রয়োজন হয়ঃ
- এসএসসি ও এইচএসসি সনদ ও মার্কশিট
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ - সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি - নাগরিকত্ব সনদ (প্রয়োজনে)
- কোটার প্রমাণপত্র (মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইত্যাদি)
- আবেদন ফি জমার জন্য টেলিটক সিমে প্রয়োজনীয় টাকা।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে।
DSS পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি কৌশল (সংক্ষেপে)
- বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান সমান গুরুত্ব দিন।
- পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন।
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মডেল টেস্ট দিন।
- সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক তথ্য পড়ুন।
- গণিত ও ইংরেজি গ্রামারে নিয়মিত অনুশীলন করুন।
- পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ নোটগুলো পুনরায় রিভিশন দিন।
আবেদন ফি জমা দেওয়ার নিয়ম
অনলাইনে আবেদন ফর্ম সাবমিট করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা না দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
# প্রথম SMS:
মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: DSS <স্পেস> User ID
এরপর পাঠিয়ে দিন 16222 নম্বরে।
ফিরতি মেসেজে আপনাকে একটি PIN নম্বর দেওয়া হবে এবং কত টাকা কাটা হবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
# দ্বিতীয় SMS:
মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: DSS <স্পেস> YES <স্পেস> PIN
এবং আবার পাঠিয়ে দিন 16222 নম্বরে।
সবশেষে একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে যেখানে একটি Password দেওয়া থাকবে। এই পাসওয়ার্ডটি এডমিট কার্ড ডাউনলোডের সময় লাগবে, তাই এটি সাবধানে সংরক্ষণ করুন।
ছবি ও স্বাক্ষরের ডেটা টেবিল
| ফাইলের ধরন | পিক্সেল সাইজ | সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ | ফরম্যাট |
|---|---|---|---|
| রঙিন ছবি | ৩০০ x ৩০০ পিক্সেল | ১০০ KB | .JPG |
| স্বাক্ষর | ৩০০ x ৮০ পিক্সেল | ৬০ KB | .JPG |
আবেদন করার সময় সবচেয়ে বেশি হওয়া ১০টি ভুল
- নাম বা জন্মতারিখ ভুল লেখা।
- ভুল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা।
- অস্পষ্ট ছবি আপলোড করা।
- ভুল সাইজের স্বাক্ষর দেওয়া।
- শিক্ষাগত তথ্য ভুল দেওয়া।
- ভুল কোটায় আবেদন করা।
- আবেদন ফি সময়মতো পরিশোধ না করা।
- আবেদন সাবমিটের আগে তথ্য যাচাই না করা।
- ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ না করা।
- শেষ দিনের জন্য আবেদন ফেলে রাখা।
অফিসিয়াল তথ্যসূত্র
| বিষয় | অফিসিয়াল লিংক |
|---|---|
| সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট | https://dss.gov.bd |
| অনলাইন আবেদন পোর্টাল | https://dss.teletalk.com.bd |
| নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি PDF | Official Circular PDF |
| জাতীয় তথ্য বাতায়ন | https://bangladesh.gov.bd |
| জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাকরি নীতিমালা | https://mopa.gov.bd |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. আমি কি একাধিক পদে আবেদন করতে পারব?
হ্যাঁ, আপনি চাইলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একাধিক পদে আলাদাভাবে ফর্ম পূরণ করে এবং আলাদা ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
২. User ID বা Password হারিয়ে গেলে কী করব?
পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে টেলিটক সিম থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে DSS HELP USER User ID লিখে 16222 নম্বরে সেন্ড করে তা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
৩. আমার জেলায় এই পদের জন্য কোটা নেই, আমি কি আবেদন করতে পারব?
বিজ্ঞপ্তিতে যদি উল্লেখ থাকে যে আপনার জেলার জন্য পদটি সংরক্ষিত নয়, তবে আপনি সাধারণ কোটায় ওই পদে আবেদন করতে পারবেন না।
শেষ কথা
dss.teletalk.com.bd apply 2026 লিংকের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। দোকানে না গিয়ে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকেই একটু সতর্কতার সাথে আবেদনটি সম্পন্ন করা সম্ভব। শুধু খেয়াল রাখবেন তথ্যগুলো যেন সার্টিফিকেটের সাথে হুবহু মিলে যায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টেলিটকের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া হয়।
লেখক পরিচিতি:
এই নিবন্ধটি বাংলাদেশের সরকারি চাকরি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং আবেদন প্রক্রিয়া বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।






![[আপডেট তথ্য] বাংলাদেশ রেলওয়ে পোর্টার পদের কাজ । বেতন, ভূমিকা, সুযোগ-সুবিধা [আপডেট তথ্য] বাংলাদেশ রেলওয়ে পোর্টার পদের কাজ । বেতন, ভূমিকা, সুযোগ-সুবিধা](https://infonestic.com/wp-content/uploads/2026/06/আপডেট-তথ্য-বাংলাদেশ-রেলওয়ে-পোর্টার-পদের-কাজ-।-বেতন-ভূমিকা-সুযোগ-সুবিধা-150x150.webp)